ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিঁয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) আবহাওয়ার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 
ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’
ঘূর্ণিঝড়টি আজ সকাল ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার, দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২২৫ কিলোমিটার, দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘণীভুত হয়ে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সবোর্চ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

 বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র  টোঙ্গায়  একটি ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, গ্রিনীচ মান সময় ১৬০২ টায় টোঙ্গার প্রত্যন্ত আগ্নেয়গিরির দ্বীপ নিউয়াটোপুটাপু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্প
ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরো জানায়,  এতে সুনামির কোনো ঝুঁকি ছিল না। খবর এএফপি’র।
রাজধানী নুকুআলোফার কাছে টোঙ্গা মেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিসেস-এর প্রধান আবহাওয়াবিদ গ্যারি ভিটে বলেন, যারা ভূমিকম্পটি অনুভব করেছে তারা ভোরবেলা আমাদের কাছে ফোন করে, তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।’
সামোয়ানের রাজধানী অ্যাপিয়া’র উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরেবর্তী এলাকায়ও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
সামোয়া মেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘শক্তিশালী কম্পন অ্যাপিয়া’র কাছের অফিসটিকে কাঁপিয়েছে তবে ক্ষয়ক্ষতির  কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
টোঙ্গা ও সামোয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত। এলাকাসমূহে টেকটোনিক প্লেটগুলি প্রায়শই স্থানান্তরিত হয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে ।
বানিয়াচংয়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে পিতা ও সৎভাই গ্রেফতার

বানিয়াচংয়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে পিতা ও সৎভাই গ্রেফতার

জুয়েল রহমান, বানিয়াচং হবিগঞ্জ সংবাদদাতাঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২০)কে হত্যার দায়ে পাষন্ড পিতা এবং দুই সৎভাইকে গ্রেফতার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ।  মঙ্গলবার (৯ মে) আসামীদেরকে বিচারার্থে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হল,১২ নং সুজাতপুর ইউনিয়নের খাগালিয়া ইসলামপুর গ্রামের নিহত জাহাঙ্গীরের পাষন্ড পিতা আব্দুল মন্নাফ (৬০),সৎ ভাই মোঃ সাইদুল ইসলাম ঝন্টু (২৩)এবং জাহিদুল ইসলাম (১৭)।
বানিয়াচং হবিগঞ্জ
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১২নং সুজাতপুর ইউনিয়নের খাগালিয়া ইসলামপুর সাকিনে গত ১২ মার্চ ২৩ইং তারিখ পারিবারিক কলহের জের ধরিয়া পাষন্ড পিতা আব্দুল মন্নাফ, তাহার ২য় সংসারের ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম ঝন্টু, জাহিদুল ইসলাম এবং ২য় স্ত্রী ছেনু আক্তারের সহতায়তায় রাত অনুমান ০১.৩০ ঘটিকার সময় নিজ বসত ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ২য় সংসারের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২০) কে ঘুম থেকে তুলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠের চেলী ও কাপড় কাটার কাঁচি দ্বারা মাথায় আঘাত করিয়া এবং কান কাটিয়া নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয় নাই, তারা জাহাঙ্গীরের লাশ বাড়ীর অদূরে ধান ক্ষেতের মধ্যে গোপন করিয়া রাখে।

 ৩দিন পর লাশ পঁচে দূর্গন্ধ বের হলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহত জাহাঙ্গীরের সৎমা ছেনু আক্তার (৫০) কে গ্রেফতার করিলে সে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ওই জবানবন্দির আলোকে খুনের ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরের পাষন্ড পিতা এবং দুই সৎভাইকে শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন সুতাং (সুরাবই) এলাকা হইতে ৮ মে সোমবার গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আজ আসামীদেরকে বিচারার্থে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যেভাবে অফলাইনে জিমেইল ব্যবহার করবেন

যেভাবে অফলাইনে জিমেইল ব্যবহার করবেন

ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া অর্থাৎ অফলাইনে থাকা অবস্থায়ও এখন থেকে জিমেইল ব্যবহার করা যাবে। সম্প্রতি অফলাইন সাপোর্ট ফিচার চালু করেছে গুগল। এই ফিচার ব্যবহার করে এখন থেকে মেইলপড়ার পাশাপাশি তা সংরক্ষণ করা, মুছে ফেলা, লেখা এবং খুঁজে বের করা যাবে।

অফলাইনে জিমেইল ব্যবহার

গুগল আইও কনফারেন্সের আগে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসা হয় জিমেইলে। এরপর জনপ্রিয় এই মেইলিং সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আরও কিছু ফিচারও যোগ করা হয়। আর সর্বশেষ এতে যোগ করা হলো এই অফলাইন ফিচার।

জিমেইলের অফলাইন ফিচার ব্যবহার করতে হলে ক্রোম ব্রাউজারের ৬১ ভার্সন প্রয়োজন হবে। এরপর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই এ সেবা পাওয়া যাবে। যেভাবে পাবেন অফলাইন জিমেইল সেবা–

১। প্রথমেই গুগল ক্রোমের ৬১ ভার্সন ডাউনলোড করে নিতে হবে,

২। ব্রাউজার থেকে জিমেইলে প্রবেশ করে ডান কোনায় থাকা সেটিংস আইকনের মতো যে আইকনটি রয়েছে তাতে ক্লিক করতে হবে,

৩। এপর্যায়ে বেশ কয়েকটি অপশন আসবে। সেখান থেকে সেটিংস লেখা অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে,

৪। এবার অনেক অপশন আসবে। এখান থেকে ওপরের দিকে ডান কোনায় থাকা অফলাইন নামের ফিচারটি নির্বাচন করতে হবে এবং

৫। সবশেষে এনাবল অফলাইন মেইল অপশন সিলেক্ট করলেই কার্যকর হবে অফলাইন মুড। সূত্র: গেজেটস নাউ।

ছেলের চাপাতি দিয়েই গলা কেটে ছেলেকে হত্যা করল বাবা

ছেলের চাপাতি দিয়েই গলা কেটে ছেলেকে হত্যা করল বাবা

 মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ  রিপোর্টারঃ গাজীপুরে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ওমর ফারুক ওরফে সবুজ (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছেলের কিনে আনা চাপাতি দিয়েই গলা কেটে হত্যা করেন বাবা।



রোববার (৭ মে) রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানাধীন কান্দুরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মোহনগঞ্জ থানার কানুহারী এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান ঢাকার ডাক কে বলেন, নিহতের মা মোছা দিলুয়ারা আক্তার ওরফে আঙ্গুরা সপরিবারে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা উত্তরপাড়া এলাকায় ভাড়ায় থাকতেন। তার বড় ছেলে আশরাফুল আলম (৩৩) একজন উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। তিনি সাত-আটটি বিয়ে করেছেন। সব সময় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে বাসায় এসে পুনরায় নেশার জন্য মা-বাবার কাছে টাকা দাবি করতেন। না দিলে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ৫ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছেলে আশরাফুল আলম স্থানীয় বাজার থেকে একটি ধারালো চাপাতি কিনে আনেন। বাসায় এসে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য তার বাবার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না চাইলে চাপাতি দিয়ে মা ও বাবাকে খুন করার হুমকি দেন। দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীকে ডেকে ছেলেকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দেলোয়ারা আক্তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সবুজকে গ্রেফতার করা হয়।

কী  কী  খাবার খেলে বীর্য ঘন হয়

কী কী খাবার খেলে বীর্য ঘন হয়

নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে এমনিতেই পুরুষের বীর্য ঘন হয়ে থাকে। যেমন প্রতিদিন দুধ, ডিম, মধুগ্রহণ করলে সাধারণত আর কোনো কিছুরই দরকার পড়ে না। অনেকে আবার সরাসরি ঔষধ খাওয়া শুরু করে দেন। তারও কোনো দরকার আছে বলে ডাক্তাররা মনে করেন না। কারণ পুরুষের বীর্য উৎপন্ন হয় সরাসরি তাদের খাবার থেকে। প্রাকৃতিক কিছু জিনিস যা আমাদের হাতের কাছেই পাওয়া যায়। এবং এগুলো নিয়মিত খেলে এমনিতেই পুরুষের বীর্য ঘন হয়ে থাকে। 

কী  কী  খাবার খেলে বীর্য ঘন হয়

আসুন দেখে নেই জিনিস গুলো কি কি- রসুন : যারা পড়ন্ত যৌবনে চলে গিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটিখাঁ গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পা রেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম পানি বা দুধ খাওয়া উচিত। তাছাড়াও কাঁচা কাঁ আমলকির রস ২ বা ১ চামচ নিয়ে তার সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন বাটা খেতে পারেন। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থা র্ঘ য়ি হবে। কিন্তু মনে রাখবেন অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদ জনক যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না।

এর কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধা বাঁ র ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ইসুপগুলের ভুসি: রাতে শুবার সময় ইসুপগুলের ভুসি পানি দিয়ে খান। এভাবে সাত দিন খান ফলাফল নিজেই বুঝতে পারবেন। দুধদু, ডিম ও মধু: পুষ্টিকর খাবার যেমন দুধ, ডিম ও মধুইত্যাদি নিয়মিত খেলে এমনিতেই পুরুষের বীর্য ঘন হয়ে থাকে। প্রতিদিন তিন বেলা খাবার পর এক চা-চামচ বা তার কিছু কম মধুখেলে ভালো উপকার পাবেন। ডাক্তাররা বলে এইসব খাবার নিয়মিত খেলে আর কোনো ঔষধের প্রয়োজন পরে না। কারণ খাবার থেকেই পুরুষের বীর্য উত্পন্ন হয়

শিমুল মূল চূর্ণ ও শিলাজুতজু : “শিমুল মূল চূর্ণ” র্ণ এবং “শিলাজুতজু ” প্রতিদিন ১ চামচ পরিমান সকালে পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহ বা ১০ দিন খেতে পারেন। এতেই কাজ হয়ে যাবে। “শিলাজুতজু ” আগের দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এগুলো প্রাকৃতিক।


নিচে বীর্য গাঢ় করার জন্য বিভিন্ন গাছ-গাছালীর গুনাবলী আলোচনা করা হল: বামতুলসী– রামতুলসী পাতার রস ধ্বজভঙ্গে খুবই উপকারী। মাত্র দুই সপ্তাহ নিয়মিত খেলে রোগীর স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা ফিরে আসে। বেল– যৌবন উত্তেজনা উম্মচিত হয়ে তরুন যুবক কু-পথে চালিত হয়ে শুক্রক্ষয় করে থাকে। তিন থেকে চারটি বেলপাতা ভালোভাবে বেটে তার রস আধাকাপ ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে কিছুদিন খেলে শরীরে তীব্র কাম উত্তেজনা হ্রাস পায়। তবে একটা দীর্ঘদির্ঘ ন খাওয়া মোটেই উচিত নয়। দম্পত্য জীবনে বীপরীত ফল হতে পারে। 

আলকুশী– যৌ বনে নানা প্রকার কু-অভ্যাসের ফলে অতিরিক্ত শুক্র ক্ষয়ের জন্যে মহামূল্যবান বীর্য তরল হয়ে যায়। আলকুশীর পাকা বীজ চার থেকে পাচটি আগের রাতে এক কাপ গরম দুধে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে বীজগুলোর কোসা ছাড়িয়ে শিলে মিহি করে বেটে নিয়ে সামান্য গাওয়া ঘিয়ে বাটা বীজকে ভেজে নেয়া দরকার। তবে ভাজাটা খুব কড়াভাবে ভাজা চলবে না। ঠান্ডা হলে এক চামচ মিসরীগুড়া অথবা সমপরিমান চিনি মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে তরল বীর্য ঘন হয়ে যাবে। অন্তত বিশদিন ধরে খেয়ে যেতে হবে এবং পথ্য হিসেবে গরুর দুধ ২৫০ মি.লি. থেকে ৫০০ মি.লি ঔষুধ চলাকালীন খেয়ে যেতে হবে। কলমি শাক- কলমি শাক আমরা প্রায় খাই। 

এ শাকের গুনাবলী অনেক। কলমি শাকের রস ৩ চামচ এবং অশ্বদন্ধার মূলের গুড়া (কবিরাজী দোকানে পাওয়া যায়) দেড় গ্রাম গরুর এক কাপ দুধে মিশিয়ে রাতে শোবার সময় একবার করে খেলে বীর্য গাঢ় হবে এবং স্বপ্নদোষও বন্ধ হবে। শতমুলী– দে হে যৌবন আসার সাথে কু-অভ্যাসের ফলে বী র্য পাতলা হয়ে যায়। তাছাড়া কুচিন্তা এবং কুদৃশ্য ঐসব কুভাবনা চিন্তা দৃশ্য দেখে ঘুমের মধ্যে পাতলা বীর্য সহজেই বের হয়ে যায়। শতমূলীর রস ৫০ মিলি লিটার একটি স্টিলের পাত্রে রেখে তাতে ১০০ মিলিলিটার গাওয়া ঘিয়ে দিয়ে আচে পাক করতে হবে। এ ঘি তিন গ্রাম আধা কা প সামান্য গরম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে বিকেলে খেলে বীর্য গাঢ় হবে। তবে নিজেকেও কিছুটা সংযত রাখার চেষ্টা করতে হবে। লতাকস্তুরী– লতাকস্তুরী বীজের গুড়া দেড় গ্রাম, এক গ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে খেলে ধীরে ধীরে শুক্র বেড়ে যায়। তবে নিয়মিত একমাস ধরে খাওয়া উচিত।

 জল-যমানী (ছিলি-হিন্টি)– অনেকের প্রসাবের আগে অথবা পরে প্রস্রাবের সাথে বীর্য বেরিয়ে আসে। এ অবস্থায় এ গাছের পাতা নিয়ে থেতো করে আধা পোয়া পানিতে চটকে ছেকে নিন। তারপর তাতে অল্প চিনি মিশিয়ে শরবত করে খান, বীর্য গাঢ় হবে। বকুল ফুল– অপুষ্টিজনিত কারণে শুক্রতরল্য দেখা দিলে পাকা বকুল ফলের সিরাপ প্রতিদিন দুপুরে আহারের পর ১ চা-চামচ নিয়ে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ খাবেন বীর্য গাঢ় হবে। শিমুল গাছ– চা রা শিমুলগাছের মুল থেতো করে বা বেটে ৭ থেকে ১০ গ্রাম নিয়ে তার সাথে একটু চিনি মিশিয়ে দু’বেলা খেলে বীর্য গাঢ় হবে।


 উপরে যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়মিত ওষুধ খেলে বীর্য গাঢ় হবে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মিলন হবে অটুট, মনে আসবে শান্তি এবং টাকা বাঁচবাঁ বে, বাঁচবাঁ বে সময়ও। ভালো লাগলে মতামত দিন। বিঃদ্রঃ অন্য কোন সমস্যা র কারণে বীর্য ঘন করার উপরিউক্ত ঘরোয়া উপায় ভাল ফলাফল না দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

দাসপ্রথার বিস্তার ও বিলোপের ইতিহাস

দাসপ্রথার বিস্তার ও বিলোপের ইতিহাস

একসময় গবাদী পশুর মতোই হাটে-বাজারে কেনাবেচা হতো মানুষ। দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হতো তাদের। ঊনিশ শতকের শেষার্ধ্ব থেকে পুরো দুনিয়ায় দাস ব্যবসা বিলুপ্ত হতে শুরু করলেও, দাসপ্রথার ইতিহাস অতি প্রাচীন। এই বর্বর প্রথাকে উচ্ছেদ করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামও চলে এসেছে অনেকদিন ধরে। সেই আন্দোলন ও সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে, দুনিয়া থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তি ঘটে দাসপ্রথার। এই অমানবিক প্রথার অবসানকে চিহ্নিত করতে এবং প্রথাটির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৪৮ থেকে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবস।

দাসপ্রথার বিস্তার ও বিলোপের ইতিহাস

আজকের দিনে সারা দুনিয়াজুড়ে যে সম-অধিকার, মানবাধিকারের মতো ব্যাপারগুলো এত আলোচিত বিষয়, সেই পথে বিশ্ববাসীকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিল দাস প্রথার বিলোপের মতো মহা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি। আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—মানবপাচার, যৌনদাস, জবরদস্তিমূলক শিশুশ্রম, বলপ্রয়োগে বিয়ে ও যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৯১ সালে বর্তমান হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকান অঞ্চলে প্রথমে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্রিটেন ১৮০৭ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৮ সালে তাদের আফ্রিকান দাসদের মুক্তি দেয়। এরপর যুক্তরাজ্য ১৮৩৩ সালে, ফ্রান্স ১৮৪৮ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৫ সালে আইন করে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। তারপরেও এখনো বিশ্বের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, দাসত্ব ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দী রয়েছে। 

প্রাচীন দাসপ্রথাটি এখনো বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীতে এবং বিভিন্ন পরিবারে। মানবসভ্যতার ইতিহাস অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ সালে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম ক্রীতদাস প্রথা চালু হয়। এর হাজারখানেক বছর পর থেকে এই প্রথা মিসর হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষে। মিশরের গ্রেট পিরামিডের মতো সুবিশাল স্থাপত্যও তৈরি করা হয় দাসদের কাজে লাগিয়েই। এর অনেক পরে চীনে এই কু-প্রথাটি জেঁকে বসে। পিরামিডের মতোই চীনের মহাপ্রাচীরও নির্মিত দাসদের ঘাম, রক্ত ও কষ্টের ইতিহাস দিয়েই। ৮০০ হতে ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিস এবং ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে শুরু হয় ক্রীতদাস প্রথার মারাত্মক বিস্তার। এভাবে প্রায় বিশ্বজুড়েই একসময় ছড়িয়ে পড়ে এই ভয়াবহ কু-প্রথাটি।

কুখ্যাত ট্রান্স আটলান্টিক দাস ব্যবসা

দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বে প্রচলিত ছিল দাস ব্যবসা। দাস ব্যবসার খুবই মন্দ রূপটি দেখা গিয়েছে মধ্যযুগে ‘ট্রান্স আটলান্টিক দাস ব্যবসা’য়। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর মানবজাতির ইতিহাস বদলে দেওয়া একটা দিন বলা যেতে পারে। ওইদিন ভারতের মাটিতে পৌঁছেছেন মনে করে আমেরিকা মহাদেশের মাটিতে পা রাখেন নাবিক কলম্বাস ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা। এরপর থেকেই, ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের মতো ইউরোপীয়রা ছুটে আসতে শুরু করল সদ্য আবিষ্কৃত এই মহাদেশে। স্থানীয় আদিবাসীদের একটু একটু করে সরিয়ে দিয়ে দখল করতে লাগল তাদের জমি। ইউরোপে অভাব ছিল প্রচুর পরিমাণে আবাদযোগ্য জমির। তাই, বিপুল পরিমাণে ফাঁকা আবাদী জমি পেয়ে যেন হাটে আকাশের চাঁদ পেয়ে গেল তারা। শুরু হলো ব্যাপক কৃষিকাজ, কিন্তু বাড়ল স্থানীয়দের ওপর অত্যাচার। কিন্তু সমস্যা হলো উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো বিশাল দুটি মহাদেশের হাজার হাজার মাইল অনাবাদি জমি আবাদ করার মতো জনবল তাদের ছিল না। সেই সমস্যা সমাধানে আফ্রিকা থেকে লাখ লাখ কালো মানুষ ধরে আনা হলো কৃষি জমিতে কাজ করানোর জন্য। আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে আমেরিকায় দাস ধরে আনা হতো বলে ইতিহাসে তা পরিচিত ‘ট্রান্স আটলান্টিক স্লেভ ট্রেড’ হিসাবে।

ইউরোপ থেকে দাসভর্তি প্রথম জাহাজটি আমেরিকায় পৌঁছায় ১৫০২ সালে। সেটি ছিল এক স্প্যানিশ জাহাজ। শুরুর দিকে দাস ব্যবসা পুরোপুরি ছিল পর্তুগিজ এবং স্প্যানিশদের হাতে। সময়ের সাথে সাথে সমানতালে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও ফ্রান্স। ষোড়শ শতকের শুরু থেকে আরম্ভ হওয়া দাস ব্যবসা উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে চলতে থাকে। এই সময়ে দাস বানিয়ে ধরে আনা হয়েছিল আফ্রিকার প্রায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটির মতো নারী, পুরুষ ও শিশুকে। যাদের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগই মারা পড়েছিল সমুদ্র পথে নিয়ে আসার সময়, তাদের ওপর করা অত্যাচারে কিংবা ক্ষুৎপিপাসা ও রোগ শোকে। প্রায় ৮০ লক্ষের মতো দাস আনা হয়েছিল শুধু ব্রাজিলেই। ৪০ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে। বাকিদের পাঠানো হয়েছিল হাইতি ও অন্যান্য ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে।

মূলত দাস ব্যবসার কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চল যেটা বিস্তৃত ছিল সেনেগাল থেকে অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত। দাস ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ছিল বেনিন, টোগো এবং নাইজেরিয়ার পশ্চিম উপকূলে। তাই এলাকাগুলোকে স্লেভকোস্ট বা দাসের উপকূল বলা হতো। যুদ্ধবন্দী, অপরাধী, ঋণগ্রস্ত ও বিদ্রোহীদেরকে স্থানীয় আফ্রিকানদের কাছ থেকে দাস হিসেবে কিনে নিত ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অনেক সাধারণ মানুষকেও দাস ব্যবসায়ীরা অপহরণ করে দাস হিসাবে বেচে দিত। মোট ৪৫টি ছোট বড় জাতিগোষ্ঠি থেকে দাস ধরে আনা হতো। এদের বেশিরভাগই ছিল আদিবাসী বা আফ্রিকার স্থানীয় সংস্কৃতির অনুসারী।

দাসদের ধরে আনা হতো জোর করে। তাই তাদের বাধ্য করার জন্য বিভিন্ন রকম অত্যাচার করা ছিল দাস ব্যবসায়ীদের কাছে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তার ওপর বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা পড়ত সমুদ্র পথে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার সময়। জাহাজগুলোতে খরচ বাঁচানোর জন্য গাদাগাদি করে মানুষ ওঠানো হতো। থাকত না স্যানিটেশনের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত খাবার। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিত হতো আমেরিকায় নিয়ে আসার পর। সেখানকার সিজনিং ক্যাম্পগুলোতে মারা পড়ত ডায়রিয়া ও আমাশয়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশ দাস। অনেকে এই অপমানের গ্লানি থেকে বাঁচতে পালানোর সময় মারা পড়ত, কেউবা করত আত্মহত্যা। দাসরা বিবেচিত হতো প্রভুর সম্পত্তি হিসাবে। যদিও সুদূর অতীত থেকেই দাসপ্রথা চলে আসছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে, তবে কোথাও এর অমানবিকতা আমেরিকান দাসপ্রথাকে অতিক্রম করতে পারেনি। আমেরিকান ভূমি মালিকদের কাছে দাসরা ছিল কেবল কৃষি কাজের মাংসল যন্ত্র।

শিল্প বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর অর্থনীতি ছিল দাস নির্ভর। উত্তর আমেরিকার তুলা এবং ব্রাজিল ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের চিনি ছিল ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রধান অর্থকড়ি ফসল। ভারত থেকে আনা চা পান করার জন্য ক্যারিবীয় অঞ্চলের চিনির কদর তখন সারা ইউরোপ জুড়ে। চিনির বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য তখন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা। বলা হয়ে থেকে আমেরিকার কার্পাস তুলা থেকেই নাকি সূচনা হয়েছিল ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের। আর সেই তুলা থেকে বানানো সাদা কাপড়ের নীল জোগান দেওয়া হতো আমাদের দেশ থেকেই। সে আরেক নিষ্ঠুরতার ইতিহাস। তবে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে দাস ব্যবসার অর্থনৈতিক আবেদন কমে যেতে থাকে। তাই উনবিংশ শতক থেকে বিভিন্ন জায়গায় দাবি উঠতে থাকে দাস প্রথা বিলোপ করার।

দাসপ্রথা উচ্ছেদে আব্রাহাম লিংকনের ভূমিকা

রাষ্ট্রীয়ভাবে দাস প্রথা সর্বপ্রথম বিলুপ্ত ঘোষণা করে ইংল্যন্ড ১৮০৭ সালে। তারপর একে একে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হতে থাকে দাস ব্যবসা। সর্বশেষ দেশ হিসাবে দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছিল ব্রাজিল ১৮৩০ সালে। তবে অবৈধ দাস ব্যবসা বন্ধ হতে ১৮৬০ এর দশক পর্যন্ত সময় লাগে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ও দাসপ্রথা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ১৮৬১ সালে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পরই আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে, দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলমান বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল এই গৃহযুদ্ধ। লিংকনের জন্য তখন চ্যালেঞ্জ—এই যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা, কিন্তু প্রধান সমস্যাটি ছিল চাইলেই দাসপ্রথা দূর করতে পারতেন না তিনি।

শত শত বছর ধরে চলে আসা দাসপ্রথা আমেরিকার সংবিধান প্রণয়ণের সময় পৃষ্ঠপোষকতা পায় এবং লিংকনের আগে কোনো প্রেসিডেন্টই সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেননি। অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিটি রাজ্যের যেহেতু স্বাধীনতা রয়েছে নিজস্ব আইন প্রণয়নের, তাই ধীরে ধীরে উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি রাজ্য থেকে দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটে। কিন্তু কট্টর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উগ্র শ্বেতাঙ্গবাদ এত বেশি ছিল যে তারা দাসপ্রথা বিলুপ্তিতে কোনো ভূমিকা নেয়নি, যা এই গৃহযুদ্ধ সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে লিংকনের প্রাধান্য ছিল বিদ্রোহ দমন করা। তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে এমনটিই প্রতীয়মান হয়। ৬ আগস্ট, ১৮৬১ সালে তিনি একটি আইন পাশ করেন যা পরিচিত ‘কনফিসকেশন অ্যাক্ট’ নামে। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহে যারা সমর্থন জুগিয়েছিল তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যেহেতু দাসদেরকেও সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো, তাই এই আইন পাশের এক বছরের মধ্যে দশ হাজারেরও বেশি দাস ছাড়া পায়। কিন্তু এসব দাসেরা তাদের মালিকের কাছ থেকে ছাড়া পেলেও তারা আদৌ মুক্ত ছিল কিনা এবং পরবর্তীতে অন্য কোনো মালিকের দাসে পরিণত হতে পারত কিনা তা এই আইন ব্যাখ্যা করতে পারেনি। তাই এই আইন তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিন্তু দাসপ্রথা বিলুপ্তিতে যে রাজনৈতিক সমর্থনের দরকার ছিল তা এটি আদায় করতে সক্ষম হয়।

তাই বলা যায় যে, যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছিল আব্রাহাম লিংকনের প্রভাব। প্রথমে তিনি শুধুমাত্র আমেরিকাকে একত্র করতে চাইলেও যখন তার কাছে সুযোগ এসেছে দাসদের মুক্ত করে এতদিনের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করার, তিনি কাজে লাগিয়েছেন সেই সুযোগ। এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতাই তাকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এবং জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এভাবে, ১৮৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা হয় দাসপ্রথা।

উপমহাদেশে দাসপ্রথা

দাসপ্রথা বেশ জাঁকিয়ে বসেছিল এই বাংলা তথা উপমহাদেশেও। ১৮৬২ সালের হিসাবে আসামে ছিল ২৭,০০০ ও চট্টগ্রামে ছিল ১,২৫,০০০ দাস। দাম ছিল গড়ে কুড়ি টাকা। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দাস ছিল এখানকারই নিজস্ব অধিবাসী। কিছু বিদেশি ক্রীতদাসও আসত। কলকাতাতে প্রতিবছর আসত প্রায় ১০০ ভিনদেশি দাস। ১৮৩০ সালের এক সংবাদপত্রের প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, অযোধ্যার নবাব চড়া দামে কিনেছিলেন ৫ জন সুন্দরী বিদেশি মেয়ে আর ৭ জন ভিনদেশী পুরুষ। দাম পড়েছিল কুড়ি হাজার টাকা। পলাতক ক্রীতদাস ধরে দেবার জন্য পুরস্কার ঘোষণারও নজির রয়েছে অনেক। ব্রিটিশ ওয়ারেন হেস্টিংস তো রীতিমতো নিয়ম করে দিয়েছিলেন কোনো দাস কেনার সময় আদালতে রেজিস্ট্রি করাতে হবে। কলকাতায় এই ফি ছিল দাসপ্রতি ৪ টাকা ৪ আনা। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ দাসই হয় দুর্ভিক্ষের কারণে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছিল অথবা ছিল নিচু শ্রেণীর মানুষ, কিংবা ছেলে ধরার হাতে ধরা পড়া বাচ্চারা। বাংলার সুলতানেরা অবশ্য আফ্রিকা, তুর্কিস্তান, পারস্য আর চীন থেকেও কিনে আনাতেন দাস। ১৮৩০-এর শতকের শেষভাগে আফ্রিকা থেকে আনা ‘হাবসী’ আর ‘কাফ্রি’ ক্রীতদাসদের দাম ছিল সবচেয়ে বেশি। হিন্দু সমাজে টাকা দিয়ে কেনা দাসদের ডাকা হতো ‘ক্রীতদাস’ বা ‘দাস’ নামে আর মেয়ে ক্রীতদাসের নাম ছিল ‘দাসী’। মুসলিম সমাজে পুরুষ ক্রীতদাসদের নাম ছিল ‘গোলাম’ বা ‘নফর’ আর মেয়ে ক্রীতদাসের পরিচয় ছিল ‘বাঁদী’ নামে। তাছাড়া সুন্দরী বাঁদীদের দাম আর চাহিদাও বেশি। মহাজনদের দেনা শোধ করতে না পেরেও অসংখ্য মানুষ নিজেদের বিক্রি করে দিত দাস হিসেবে। সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম আর ঢাকা অঞ্চলে ১৮৩৯ সালের আইন কমিশনের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ওখানকার এক-পঞ্চমাংশ মানুষই ছিল ক্রীতদাস। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে এসে ক্রীতদাস প্রথা বন্ধ হতে থাকে। আমাদের এই অঞ্চলে ১৮৪৩ সালের পাঁচ নম্বর অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে ক্রীতদাস প্রথা বন্ধের পথটি সুগম হয়।
‘দাসত্ব’ বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের ‘অস্থাবর সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা। এই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ব্যক্তিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্থান বা মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যায়। তাদের শ্রমের কোনো মজুরীও নেই। অতীতে কোনো কোনো সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করাও আইনসঙ্গত ছিল। সেইসব বর্বরতা থেকে মানবজাতি বেরিয়ে এসেছে। তবে ক্রীতদাস প্রথার যে আধুনিক রূপান্তর, দরকার তার থেকে মুক্তির উপায় বের করা। মানব-সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সুসভ্য জাতিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোও সেই অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই। এই প্রেক্ষাপটে যে কোনো ধরনের দাসপ্রথাই যাতে জাতির সেই অগ্রযাত্রার পথকে কলঙ্কিত না করতে পারে, প্রত্যাশা হোক এমনটাই।