বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজে ৪ তলা ভবন উদ্বোধন ও আলোচনা সভা

বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজে ৪ তলা ভবন উদ্বোধন ও আলোচনা সভা

জুয়েল রহমান হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়েল কলেজের নবনির্মিত ৪ তলা ভবনের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ২২ মে দুপুর ১২ টায় বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজের আয়োজনে কলেজের দক্ষিণ পাশে ৪ তলা ভবনটির উদ্বোধন এবং কলেজের মাঠ প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জীববিজ্ঞানের প্রভাষক অরুপ কুমার দাসের সঞ্চালনায় ও বানিয়াচং ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিয়েল কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাছিরা আক্তার অনামিকা। 
হবিগঞ্জ
অনুষ্ঠানে উদ্ভোধক হিসেবে ৪ তলা ভবনের উদ্বোধন ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার।জনগনের কল্যাণে সরকার শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে প্রচুর পরিমানে অর্থ ব্যয় করছে। নতুন নতুন রাস্তা-ঘাট, শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছু বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান। তিনি আরো বলেন, "যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত"। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। তিনি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু শিক্ষিত হলে হবেনা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এতে করে তোমরা সুনাগরিক হয়ে উন্নত দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমিন, আইডিয়েল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বানিয়াচং ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামন খান (ধন মিয়া)। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সম্পদ কান্তি দাস, সুফিয়া মতিন কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান আহমদ ভূঁইয়া, সিনিয়র ফাজিল আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিফাল মাও: আব্দাল হোসেন খান, বিএসডি মহিলা আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাও: মুবাশ্বির আহমদ, মাও: কাজী আতাউর রহমান, ৪ নম্বর দক্ষিণ -পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, আইডিয়েল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাস, কলেজের ইংরেজি প্রভাষক জসিম উদ্দিন, মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভানু চন্দ্র চন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আসাদ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুত্তাকিন বিশ্বাস, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিপুল ভূষণ রায় প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাতাপুর মহল্লার সাবেক সর্দার এস,এম আলী আক্কাস, বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভিন আক্তার খানম, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিবুর রহমান, সাংবাদিক রায়হান উদ্দিন সুমন, শেখ জওহর হোসেন ফাহদী, আক্তার হোসেন আলহাদী, হৃদয় খান, শেখ নুরুল ইসলাম, তাপস হোম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ এলাকার গুণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আইডিয়েল কলেজ প্রভাষকবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে হায়দারুজ্জামান খান (ধন মিয়ার) প্রচেষ্টায় ও বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন ছান্দ ও মহল্লা এবং বিভিন্ন প্রবাসীদের অর্থায়নে বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজ স্থাপিত হয়। সেই ২০১১ সাল থেকে সুনামের সাথে আজ পর্যন্ত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার গুণগতমান ও  অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে প্রভাষকগণ সুশিক্ষায় শিক্ষিত করনের অগ্রণীভূমিকা রাখায় এমপিও তালিকাভুক্ত হয়েছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

১০দিনের ভিতরে সকল অবৈধ দেশীয় অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জমা দেওয়ার হুশিয়ারী-জেলা প্রশাসক 

জুয়েল রহমান  বানিয়াচং( হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা ঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা জঙ্গিবাদ ও দাঙ্গা প্রতিরোধে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মে) বিকাল ৫টায় স্থানীয় ডাঃ ইলিয়াছ একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ে বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ‘র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি মিন্টু চৌধুরী, 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, উপ-পরিচালক জেলা এনএসআই আজমুল হোসেন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী, জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান,ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া,ইউপি চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান,আহাদ মিয়া, আরফান উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান  আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান খান,মাসুদ কোরাইশী মক্কী, দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিপুল ভূষণ রায়, ইমাম সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান,বানিয়াচং প্রেসক্লাব সভাপতি মোশাহেদ মিয়া, কমিউনিটি নেতা স্মৃতি চ্যাটার্জি কাজল,সামাজিক নেতা আমীর হোসেন নিয়াশা,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃহাবিবুর রহমান,ডা:ইলিয়াছ একাডেমির প্রধান শিক্ষক হেমায়েত আলী খান,যুবলীগ নেতা শাহজাহান মিয়া,সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান তার বক্তব্যে আহবান জানিয়ে বলেন,আগামী ১০ দিনের মধ্যে বানিয়াচংয়ের সকল অবৈধ দেশীয় অস্ত্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জমাদানের জন্য আহবান জানিয়ছেন।
এর ব্যাতিক্রম হলে আইনানুগভাবে  ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
উল্লেখ্য যে,বিগত এপ্রিল মাসে বানিয়াচংয়ে দুটি গ্রাম্য দাঙ্গায় ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়ন ও ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নে ৪ জন লোক প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়াও একই মাসে ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা নিহত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয় বলে উপজেলা ও জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান করার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
উক্ত সভায় স্হানীয় সংবাদকর্মীগন ও উপস্থিত ছিলেন।
বানিয়াচংয়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে পিতা ও সৎভাই গ্রেফতার

বানিয়াচংয়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে পিতা ও সৎভাই গ্রেফতার

জুয়েল রহমান, বানিয়াচং হবিগঞ্জ সংবাদদাতাঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২০)কে হত্যার দায়ে পাষন্ড পিতা এবং দুই সৎভাইকে গ্রেফতার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ।  মঙ্গলবার (৯ মে) আসামীদেরকে বিচারার্থে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হল,১২ নং সুজাতপুর ইউনিয়নের খাগালিয়া ইসলামপুর গ্রামের নিহত জাহাঙ্গীরের পাষন্ড পিতা আব্দুল মন্নাফ (৬০),সৎ ভাই মোঃ সাইদুল ইসলাম ঝন্টু (২৩)এবং জাহিদুল ইসলাম (১৭)।
বানিয়াচং হবিগঞ্জ
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১২নং সুজাতপুর ইউনিয়নের খাগালিয়া ইসলামপুর সাকিনে গত ১২ মার্চ ২৩ইং তারিখ পারিবারিক কলহের জের ধরিয়া পাষন্ড পিতা আব্দুল মন্নাফ, তাহার ২য় সংসারের ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম ঝন্টু, জাহিদুল ইসলাম এবং ২য় স্ত্রী ছেনু আক্তারের সহতায়তায় রাত অনুমান ০১.৩০ ঘটিকার সময় নিজ বসত ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ২য় সংসারের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২০) কে ঘুম থেকে তুলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠের চেলী ও কাপড় কাটার কাঁচি দ্বারা মাথায় আঘাত করিয়া এবং কান কাটিয়া নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয় নাই, তারা জাহাঙ্গীরের লাশ বাড়ীর অদূরে ধান ক্ষেতের মধ্যে গোপন করিয়া রাখে।

 ৩দিন পর লাশ পঁচে দূর্গন্ধ বের হলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহত জাহাঙ্গীরের সৎমা ছেনু আক্তার (৫০) কে গ্রেফতার করিলে সে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ওই জবানবন্দির আলোকে খুনের ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরের পাষন্ড পিতা এবং দুই সৎভাইকে শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন সুতাং (সুরাবই) এলাকা হইতে ৮ মে সোমবার গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আজ আসামীদেরকে বিচারার্থে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।