জুয়েল রহমান হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়েল কলেজের নবনির্মিত ৪ তলা ভবনের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
১০দিনের ভিতরে সকল অবৈধ দেশীয় অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জমা দেওয়ার হুশিয়ারী-জেলা প্রশাসক
বিরামপুরে ভুট্টা তুলতেও ব্যস্ত কৃষকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি ও বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের সাথে সাথে শুরু হয়েছে ভুট্টা ঘরে তোলারও ধুম। ক্ষেত থেকে ভুট্টা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভুট্টার মাঠ জুড়ে চলছে নারী ও পুরষ শ্রমিকদের চরম কর্মব্যস্ততা।
জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলায় ফসলের মাঠে ছেয়ে আছে ভুট্টা আর ভুট্টা ক্ষেত। অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় এ উপজেলায় অনেক কৃষকই ভুট্টা চাষ করেছেন। ইরি ও বোরো ধান চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে অধিক ফলন ও দাম ভালো প্রতি বছর ভুট্টা চাষ বাড়ছে।
উপজেলার পটুয়াকোল গ্রামের ভুট্টা চাষি নজরুল ইসলাম জানান, ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ কম, সেচও কম লাগে। তাই ভুট্টা চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
আরেক চাষি কামরুজ্জামান বলেন, ভুট্টা চাষে পরিশ্রম কম লাগে। ধান চাষে পরিশ্রম হয় বেশি পরিশ্রমের তুলনায় ফলন হয় না। ধানের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে চলে টালবাহানা। সে তুলনায় ভুট্টা চাষে লাভ বেশি।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিরামপুর উপজেলায় ১ হাজার ৭শ ২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এ বছর প্রতি হেষ্টর জমিতে সাড়ে ১০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ভুট্টার ফলন হচ্ছে। বাজারে প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে।
বানিয়াচংয়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে পিতা ও সৎভাই গ্রেফতার
ছেলের চাপাতি দিয়েই গলা কেটে ছেলেকে হত্যা করল বাবা
মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ওমর ফারুক ওরফে সবুজ (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছেলের কিনে আনা চাপাতি দিয়েই গলা কেটে হত্যা করেন বাবা।
রোববার (৭ মে) রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানাধীন কান্দুরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মোহনগঞ্জ থানার কানুহারী এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান ঢাকার ডাক কে বলেন, নিহতের মা মোছা দিলুয়ারা আক্তার ওরফে আঙ্গুরা সপরিবারে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা উত্তরপাড়া এলাকায় ভাড়ায় থাকতেন। তার বড় ছেলে আশরাফুল আলম (৩৩) একজন উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। তিনি সাত-আটটি বিয়ে করেছেন। সব সময় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে বাসায় এসে পুনরায় নেশার জন্য মা-বাবার কাছে টাকা দাবি করতেন। না দিলে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ৫ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছেলে আশরাফুল আলম স্থানীয় বাজার থেকে একটি ধারালো চাপাতি কিনে আনেন। বাসায় এসে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য তার বাবার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না চাইলে চাপাতি দিয়ে মা ও বাবাকে খুন করার হুমকি দেন। দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীকে ডেকে ছেলেকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দেলোয়ারা আক্তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সবুজকে গ্রেফতার করা হয়।
বিরামপুরে নিখোঁজের একদিন পর ঘাস ক্ষেতে মিলল বৃদ্ধের মহদেহ
আঃ আজিজ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুরের বিরামপুরে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর ঘাস ক্ষেত থেকে আব্দুল ওহেদ (৭৭) নামের এক বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার ২মে পৌরশহরের পারভবানিপুর মুন্সিপাড়া এলাকার একটি মাঠ থেকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওহেদ ওই এলাকার মনছের মুন্সি’র ছেলে। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত বিষটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ছেলে গোলাম মোস্তফা দৈনিক আজকাল নিউজকে জানান, সোমবার সন্ধার দিকে বাড়ির পাশে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান তার বাবা। সেখান থেকে গভীর রাত হলেও বাড়ি ফিরে আসেনি।
রাতেই প্রতিবেশি আত্মীয়ের বাড়িতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশি মনোয়ারা বেগম নামের এক মহিলা মাঠে গিয়ে তার গলা কাটা মরদেহ দেখে পরিবারের কাছে খবর দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সুমন কুমার মহন্ত জানান,‘নিহতের মরদেহ বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দূরে মাঠের একটি ঘাস ক্ষেতে পড়ে ছিল। গলায় বেশ কয়েটি আঘাতের চিহৃ রয়েছে। পিবিআই সদস্যরা এসে মরদেহ সুরতহাল তৈরী করেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেহেরপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্যাব বিতরণ
মেহের আমজাদ,মেহেরপুর সংবাদদাতা: স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নবম ও দশম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাব বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।
ট্যাব বিতরণ করছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ট্যাব বিতরণের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ট্যাব বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ রাফিউল আলম। সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আনারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, প্রধান শিক্ষক শাশ্বত নিপন চক্রবর্তী,সিউল ইয়াসমিনখুশি,আবরার ফাহাদ প্রমুখ।
এর পরে সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৫৫ জন এবং মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮৪ জন মোট ৩৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ট্যাব বিতরণ করা হয়।
বিরামপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ভেড়া ও ভেড়ারগৃহ নির্মাণ উপকরণ বিতরণ
আঃ আজিজ, বিরামপুর: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ভেড়া ও ভেড়ার গৃহ নির্মাণ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার ১৫ এপ্রিল, দুপুর ১২টায় দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এর আয়োজনে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভেড়া ও ভেড়ার গৃহ নির্মাণ উপকরণ বিতরণ করেন, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য শিবলী সাদিক এমপি।
এসময় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু, পৌর মেয়র আককাস আলী, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মেসবাউল ইসলাম মন্ডল, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী, ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল মোমিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. এ,এম,এস গোলাম মর্তুজা, বিরামপুর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মেসবাউল হক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. মোজাম্মেল হক।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, অনুষ্ঠানে উপজেলায় ২৮৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে ২টি করে ভেড়া ও ঔষধ বিতরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ঠিকাদারের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ জন্য টিন, পিলার ও ফ্লোর ম্যাট উপকরণ বিতরণ করা হবে।
ছিনতাই হওয়া মোবাইল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করলো তালতলী থানা পুলিশ
নাজমুল আহসান, আমতলী, বরগুনা সংবাদদাতা: ছিনতাই হওয়া মোবাইলটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিলেন তালতলী থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক রাকিব হোসাইন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাত দশটার দিকে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ এর উপস্থিতিতে মোবাইলের মালিক ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ আল-আমিনকে মোবাইলটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
আল আমিন বলেন,প্রায় এক বছর আগে কড়ইবাড়িয়া থেকে মার্কেটিং এর কাজ সেরে ফেরার পথে আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। মোবাইলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস থাকায় আমার নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। জিডি নং - ৬৭০। প্রায় এক বছর পর তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের কাজির খাল এলাকার জামাল মৃধার ছেলে সোবাহান মৃধার কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের উপ পরিদর্শক রাকিব হোসাইন বলেন, হারানো মোবাইলটির জিডি আমার উপর হাওলা করেন তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়। পরবর্তীতে আমি তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ করে মোবাইলটি উদ্ধার করি। পরে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি৷
জানা যায়, গত এক বছরে প্রায় শতাধিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন তপু। তিনি এ থানায় যোগদানের পরেই বিভিন্ন এলাকার ভূমি জটিলতার সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ দু’পক্ষে আলোচনায় নিস্পত্তি হয়েছে। ফলে কমেছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। এছাড়াও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া কয়েক জন ভুক্তভোগীর টাকা উদ্ধার করা হয়।
তালতলী থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন তবু বলেন, কারো হারানো মোবাইল উদ্ধার করে দিতে পারলে তখন নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। হারানো মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষও আমাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন।
আলুর পাঁপড় তৈরি করে কোটি টাকার কারবার
জয়পুরহাটে আলুর আলুর পাঁপড় তৈরি করে চলছে কোটি টাকার কারবার। মাঠের ফাঁকা স্থান আর বাঁধের অনেক জায়গায় বড় বস্তা কিংবা জাল বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে পাতলা করা আলু। এসব শুকানো আলু ভেজে তৈরি হচ্ছে চিপস বা পাঁপড়। এটি সকলের নিকট এক ধরনের মুখোরচক খাবার হিসেবে পরিচিত।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার শ্রীকৃষ্টপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আলু থেকে চিপস তৈরির কাজে ওই এলাকার প্রায় ৪শ পরিবারের ৮৫ শতাংশই লোক এ পেশার সঙ্গে জড়িত। শ্রীকৃষ্টপুর ছাড়াও পাশের কেশবপুর ও ভদ্রকালী গ্রামের কিছু মানুষও এসব স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গ্রাম ঘুরতেই চোখে পড়বে, কেউ আলু সেদ্ধ করছেন, আবার কেউ সেদ্ধ আলু পাতলাভাবে গোলাকার করে কাটছেন। আবার কেউ কেউ গোলাকার আলু রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ চিপস তৈরির কাজ করে থাকে। আলুর চিপস তৈরি ও বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। চিপস তৈরি কারকরা জানান, ক্যাডিনাল জাতের আলু চিপস তৈরিতে ভালো। অন্য জাতের আলু দিয়ে চিপস তৈরি হলেও তেমন স্বাদ পাওয়া যায় না।
বাজার থেকে প্রতি মণ ক্যাডিনাল আলু ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে কেনা হয়। সেই আলু সেদ্ধ করার পর গোলাকার করে ( চিপস আকারে) কেটে রোদে শুকিয়ে ভেজে চিপস তৈরি করা হয়। এক মণ আলুর আট থেকে সাড়ে আট কেজি চিপস হয়। প্রতি মণ চিপস চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এ কাজের সঙ্গে জড়িত আজিরন বিবি, তহমিনা ও রুবি খাতুন বলেন, যার যেমন সার্মথ্য অনুয়ায়ী আলু কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আলু পানিতে ধুয়ে সেদ্ধ করতে হয়। সেগুলো আবার একটু ঠান্ডা হলে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বটি দিয়ে পাতলা করে কাটতে হয়। কাটা আলু গুলো সকালে শুকাতে দিয়ে আবার বিকেলে তুলতে হয়। রোদ ভালো হলে পাতলা করে কাটা আলু শুকাতে দুই দিন সময় লাগে। শুকানোর পর এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। ৩৫০ মণ আলু কিনে চিপস তৈরি করছেন জান্নাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, আলুর চিপসের ব্যবসা করি।
পরিবারের সকলকে নিয়ে এ কাজ করি। সব সময় এ কাজে লেগেই থাকতে হয়। দুই মাস আলুর চিপসের চাহিদা ব্যাপক থাকে। তারপর বৃষ্টি নামলে সেভাবে শুকানো যায় না। নিজস্ব পুঁজি থেকে বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মণ আলু কেনেন মোহাম্মদ আলী বাবু। তিনি বলেন, এসব আলু কিনে আমি গ্রামের মানুষদের বাড়িতে দিয়ে চিপস তৈরি করে নিই। এর বিনিময়ে তাদের টাকা দেওয়া হয়। অনলাইনে বা মোবাইলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকার মহাজনরা জানালে আমরা সেখানে কুরিয়ার করে চিপস পৌঁছে দেই। তিনি বলেন, এসব কাজ করে সামান্য কিছু লাভ থাকে। তবে সরকারিভাবে ঋণ সহায়তা পেলে আমরা এ কাজ বড় পরিসরে করতে পারবো। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। আলুর চিপস ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মৌসুমে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আলুর চিপস তৈরির কাজ করা হয়। প্রতি মৌসুমে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার মণ আলু কাটা হয়।
এবারও ২০ হাজার মণের বেশি আলু কাটা হবে। বর্তমানে প্রকারভেদে ৪ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা মণ চিপস বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ৫ মণ আলু থেকে এক মণ চিপস তৈরি হয়। এক মণ চিপস তৈরি করতে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়। সেই হিসেবে এখানে প্রতি বছর দুই কোটি টাকার চিপস বিক্রি হয়ে থাকে। এতে খরচ বাদে কয়েক লাখ টাকা লাভ থাকে ব্যবসায়ীদের। আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র শহীদুল আলম চৌধুরী বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অতি দরিদ্র। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও ভালো কিছু হতো। আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের মানুষ অনেকদিন ধরে আলু থেকে চিপস তৈরির কাজ করে আসছেন। এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এ শিল্পকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানসহ আলুর চিপসকে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে তৈরি করার বিষয়টিতে নজর রাখা হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
কুড়িগ্রামে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ২ ফল ব্যবসায়ীর জরিমানা
বুলবুল ইসলাম,কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃজাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের সহযোগিতায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয় কর্তৃক ৩০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদরের আদর্শ পৌর বাজারে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তরমুজের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে আদর্শ পৌর বাজারের শাকিল ফল ভান্ডারকে ২ হাজার টাকা এবং জাহিদ ফল ভান্ডারকে ১ হাজার টাকা সর্বমোট ২টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। সেই সাথে পৌর বাজারের সবগুলো দোকান তদারকি করা হয়। এসময় রশিদমূলে পন্য ক্রয়বিক্রয় করতে, মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে, ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পন্য বিক্রয় না করতে বাজারে হ্যান্ডমাইকে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম,কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক মো: শফিউল আজম,আদর্শ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদর থানা পুলিশ এ অভিযানে সহযোগিতা করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর,কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয় এর সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান,জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাপাহারে সরকারি হাসপাতালে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা উদ্বোধন
জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর সাপাহারে সরকারি হাসপাতালে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
| ছবি: জাহাঙ্গীর আলম মানিক |
বৃহষ্পতিবার বিকেল ৩ টায় সারাদেশের ন্যায় সাপাহার উপজেলাতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. জাহেদ মালেক এমপি।
এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। সেই ধারা অব্যহত রাখতে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। জনগনের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দিতে কয়েকটি জেলা ও উপজেলাতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে অফিস টাইম শেষ হবার পর বৈকালিক ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত নামমাত্র ফি' নিয়ে এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
এর আগে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্যাহ আল মামুন ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ।
এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, সেবিকা সহ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।
