প্রথম গুপ্তচর স্যাটেলাইট পরিদর্শন করলেন কিম

প্রথম গুপ্তচর স্যাটেলাইট পরিদর্শন করলেন কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন  প্রথম সামরিক গুপ্তচর স্যাটেলাইট পরিদর্শন করেছেন এবং এটির ‘ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনার’ অনুমোদন দিয়েছেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।

কিম
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, স্যাটেলাইটটি দেখার আগে কিম মঙ্গলবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দায়িত্বে নিয়োজিত অস্থায়ী কমিটির সাথে সাক্ষাত করেন।

এক মাস আগে কিম বলেছিলেন যে স্যাটেলাইটটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং তিনি এটির উৎক্ষেপণের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
পিয়ংইয়ং সলিড-ফুয়েল চালিত আন্ত:মহাদেশীয় একটি নতুন ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করার প্রায় এক সপ্তাহ পর ১৮ এপ্রিল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। উত্তর কোরিয়ার নিষিদ্ধ অস্ত্র কর্মসূচির ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, আইসিবিএম এবং মহাকাশ উৎক্ষেপণ সক্ষমতার বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এটি।
কেসিএনএ জানায়, কমিটির কাজের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার পর মঙ্গলবার কিম শত্রু পক্ষের শক্তি ও গতিবিধি এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা সামরিক গুপ্তচর স্যাটেলাইট-১ পরিদর্শন করেন।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘সংঘাতমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ’ গ্রহণ করে উত্তেজনা আরো উস্কে দেওয়ায় কিম যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে অভিযুক্ত করে বলেন, এক্ষেত্রে তার দেশ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
কেসিএনএ আরো জানায়, পরে কিম ‘প্রস্তুতি কমিটির ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনার অনুমোদন দেন।’
২০২১ সালে কিমের দিকনির্দেশনায় হাতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর অন্যতম ছিল একটি সামরিক গুপ্তচর স্যাটেলাইট নির্মাণ করা ।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

 বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র  টোঙ্গায়  একটি ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, গ্রিনীচ মান সময় ১৬০২ টায় টোঙ্গার প্রত্যন্ত আগ্নেয়গিরির দ্বীপ নিউয়াটোপুটাপু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্প
ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরো জানায়,  এতে সুনামির কোনো ঝুঁকি ছিল না। খবর এএফপি’র।
রাজধানী নুকুআলোফার কাছে টোঙ্গা মেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিসেস-এর প্রধান আবহাওয়াবিদ গ্যারি ভিটে বলেন, যারা ভূমিকম্পটি অনুভব করেছে তারা ভোরবেলা আমাদের কাছে ফোন করে, তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।’
সামোয়ানের রাজধানী অ্যাপিয়া’র উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরেবর্তী এলাকায়ও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
সামোয়া মেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘শক্তিশালী কম্পন অ্যাপিয়া’র কাছের অফিসটিকে কাঁপিয়েছে তবে ক্ষয়ক্ষতির  কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
টোঙ্গা ও সামোয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত। এলাকাসমূহে টেকটোনিক প্লেটগুলি প্রায়শই স্থানান্তরিত হয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে ।
কানাডায়  ধর্মঘটে যাচ্ছে দেড় লাখেরও বেশি সরকারি কর্মচারী

কানাডায় ধর্মঘটে যাচ্ছে দেড় লাখেরও বেশি সরকারি কর্মচারী

কানাডায় বুধবার থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মচারী ধর্মঘটে যাচ্ছে। মজুরি ও অন্যান্য দাবি নিয়ে সরকারের সাথে সমঝোতা না হলে তারা এ ধর্মঘট শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাদের ইউনিয়ন সূত্রে সোমবার এ কথা জানা গেছে।

কানাডা
কানাডার রাজস্ব সংস্থাসহ ২০টিরও বেশি দপ্তরের এসব কর্মচারী ২০২১ সাল থেকে চুক্তি ছাড়াই কাজ করছে।

তারা গত সপ্তাহে ধর্মঘটে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
পাবলিক সার্ভিস এলায়েন্স অব কানাডার (পিএসএসি) ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ক্রিস অ্যালওয়ার্ড বলেছেন, অন্যান্য কর্মচারীর মতো তারাও ন্যায্য মজুরি ও সুন্দর কর্মপরিবেশ চায়। আলোচনার টেবিলে কিছু অগ্রগতি হলেও আমাদের সদস্যরা অব্যাহতভাবে পিছিয়ে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেছেন, আমরা দু’বছর ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচিছ। কর্মচারীরা আর অপেক্ষা করতে চায় না। তাই আমরা সময় বেঁধে দিয়েছি।
মঙ্গলবার রাত নয়টার মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছানো গেলে বুধবার ১২টা এক মিনিট থেকে সাধারণ ধর্মঘট শুরু হবে।
ইকুয়েডরে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ইকুয়েডরে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় ধরনের ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা  বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছে, দুর্যোগের কয়েক দিন পরেও নিখোঁজ বেশ কিছু লোকের মধ্যে জরুরী উদ্বার কর্মীরা জীবিতদের উদ্বারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইকুয়েডরে ভূমিধসে

জীবিত কাউকে খুঁজে বের করার সম্ভাবনা কম হলেও উদ্ধারকারীরা রাজধানী কুইটো থেকে প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে আলাউসি শহরের কিছু অংশে কাদা, মাটি ও গাছপালার নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হওয়া ৬৭ জনের সন্ধানে তাদের অক্লান্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। খবর এএফপি’র।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সচিবালয় (এসএনজিআর) জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে মুষলধারে বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে এবং প্রায় ৪৫ হাজার বাসিন্দার উপর পড়ে অন্তত ১৬৩টি বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্যোগ এলাকাটিতে ফেব্রুয়ারি থেকে অন্যান্য ভূমিধসের কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করা ছিল।

সরকার ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৪ হেক্টর এরও বেশি এলাকা জুড়ে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে এবং এলাকার বা তার কাছাকাছি প্রায় ৬শ’টি বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে একই অঞ্চলে ভূমিকম্পে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ভূমিধসের পর উদ্ধারকারীরা এবং আটকে পড়াদের স্বজনরা দিনরাত ধ্বংসস্তুপের মধ্য দিয়ে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কয়েক মাস ভারী বৃষ্টিপাতের পর সরকার গত সপ্তাহে দেশের ২৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৩টিতে দুই মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় ত্রান বিতরণের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

প্রেসিডেন্ট গুইলারমো ল্যাসো যতদিন প্রয়োজন ততদিন উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এসএনজিআর-এর তথ্য অনুসারে, বছরের শুরু থেকে ইকুয়েডরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইতোমধ্যেই ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭২টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং রোববারের ভূমিধসের আগে ৬ হাজার ৯শ’টিরও বেশি বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইএইএ প্রধান ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন

আইএইএ প্রধান ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন

আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থার প্রধান পরমাণু বুধবার ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খবর এএফপি’র।

আইএইএ প্রধান

ইউরোপের বৃহত্তম এ পারমাণবিক কেন্দ্রের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কেন্দ্রটি দক্ষিণ জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। রুশ সেনাদের আগ্রাসনের পর থেকে সেখানে বারবার গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।

রাশিয়ার পরমাণু রোসেনারগোয়াটমের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এবং তার প্রতিনিধি দল বুধবার সকালে সেখানে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আইএইএ জানায়, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে এটি হবে গ্রোসির দ্বিতীয় জাপোরিঝিয়া সফর। তিনি কেন্দ্রটির পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সেখানের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা করেছেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সংস্থাটির বিশেষজ্ঞদের একটি দল এ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে রয়েছে। তবে গ্রোসি বলেন, সেখানের পরিস্থিতি ‘এখনো বিপজ্জনক।’

কেন্দ্রটি পরিদর্শনের আগে তিনি সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিয়েভের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেলেনস্কি গ্রোসিকে বলেন, ‘জাপোরঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকা থেকে রাশিয়ার সৈন্য ও কর্মীদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া ছাড়া সেখানের পারমাণবিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে কোন উদ্যোগ ব্যর্থ হবে।’